1. ruhul.lemon@gmail.com : admin :
  2. tanjid.fmphs@gmail.com : তানজিদ শুভ্র : তানজিদ শুভ্র
  3. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৯ অপরাহ্ন

ঈদের আগেই কর্মহীনদের নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০
  • ৫৬ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন জনগণকে ঈদুল ফিতরের আগেই নগদ আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যাদের আয়-উপার্জনের পথ নাই তাদের কিছু নগদ আর্থিক সহায়তা আমরা ঈদের আগেই দিতে চাই, যাতে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার জেলাপ্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ে একথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিল পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলা। প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক ঋণের সুদের টাকা দুই মাসের জন্য স্থগিত করার এবং সরকারি ছুটি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত করারও ঘোষণা দেন। ঈদকে সামনে রেখে এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাধারণ ছুটিতে বন্ধ থাকা দোকান-পাট সীমিত আকারে চালু করার অনুমতি দেয়া হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনগণ ইফতার ও সেহেরি করতে যাতে কোন সমস্যার সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার হাটবাজার এবং দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে ঈদকে সামনে রেখে জনগণ কেনাকাটা করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায়, বিভিন্ন জেলাভিত্তিক যেসব ছোটখাট শিল্প রয়েছে, সেগুলো তারা চালাতে পারবেন। সেভাবে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি বলেন, অর্থনীতির চাকা যাতে গতিশীল থাকে, মানুষকে সুরক্ষিত রেখে ও তাদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে সেগুলো যেন পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু নির্দেশনা আপনারা শিগগিরই পাবেন। তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালত সব আমরা চালু করে দিচ্ছি।

যাতে মানুষের কষ্ট না হয় এবং সামনে ঈদের আগে মানুষ যাতে কেনাকাটা বা যা যা দরকার সেটা যেন মানুষ করতে পারে। তাঁর সরকার জনগণের যোগাযোগ এবং ডাক ব্যবস্থা কার্যকর রাখার স্বার্থে ধীরে ধীরে রেল যোগাযোগও চালু করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা রেল চালু করে দিয়েছি। পচনশীল পণ্য বা একেক এলাকায় বেশি উৎপাদন হয় যেটা সেটা যেন দ্রুত পরিবহন করা যায় তার জন্য রেলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিছুকিছু চালু হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রেল চালু করার বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চান রেলমন্ত্রীর কাছে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, যারা কাঁচামালের ব্যবসা করে এদের সঙ্গে রেলের এতদিন কিন্তু কোনো যোগাযোগ ছিল না। এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যাতে আমরা একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। আমরা ইতোমধ্যে তিনটা লাগেজ ভ্যান চালু করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি রিসেন্টলি নির্দেশ দিয়েছি তার ভিত্তিতে চালু হয়েছে। আমরা যাত্রী নেব না তবে পণ্য নেব। টেলিযোগাযোগকে বলা হয়েছে যে পোস্ট অফিসের জিনিসগুলো রেলওয়েতে যেন যেতে পারে। তিনি বলেন, লাগেজ ভ্যান আমাদের যেটুকু আছে সেটুকু যুক্ত করে সারা বাংলাদেশ আমরা পণ্য পরিবহনের এই সময়ে যেহেতু সড়ক পরিবহন উন্মুক্ত হয় নাই সুতরাং রেল সুযোগটা নিতে পারে। লাগেজ ভ্যান দিয়ে সারাদেশে একটা পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খাদ্যপণ্য নয় সকল ধরনের পণ্য পরিবহন করতে হবে।

ছুটির বিষয়ে প্রদানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলাম। আমরা তা ১৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। তিনি ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ সম্পর্কে বলেন, গত দু’মাস যেহেতু কোন ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল না তাই ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সচল থাকে সেজন্য ইতোমধ্যে যারা ঋণ নিয়েছেন একেবারে ক্ষুদ্র ঋণ পর্যন্ত, কাজেই এই ঋণের সুদ স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার পর আমি নিজেই এ নিয়ে আলোচনায় বসবো। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্থাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সকলকে পুনরায় সতর্ক করে বলেন, সকলেই মাস্ক ব্যবহার করবেন। নিজেকে সুরক্ষার এবং আপনার হাঁচি-কাশি থেকে অন্যরাও যাতে সংক্রমিত না হয় সেজন্য। তিনি বলেন, একটা বিষয় আপনারা খেয়াল রাখবেন- খুব বেশি খোলামেলাভাবে মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশা ঠিক হবে না। অহেতুক বাড়ির বাইরে যাওয়া, এক জায়গায় জড়ো হওয়া, আড্ডা বা জনসমাগম করা থেকে সবাইকে মুক্ত থাকতে হবে। অতীতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করাতে বাংলাদেশ এর থেকে ভাল ফল পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাসের এখনও কোন ওষুধ বের হয়নি। তাই সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাস কষ্টকেই এই রোগের উপসর্গ ধরা হচ্ছে। সেখানে, বার বার হাত ধোয়া এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং কিছুক্ষণ পর পর গরম পানি পান করতে বলা হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের আটটি জেলার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ইমাম, ব্যাংকার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন সংযুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সহ পিএমও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী একই বিষয়ে পৃথকভাবে ছয় দফায় ৫৬টি জেলার সঙ্গে পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।

করোনাভাইরাসের এ সঙ্কট যে পুরো বিশ্বকেই বিপদে ফেলে দিয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এই ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করায় একটা ভালো ফলাফলও পাচ্ছি। সেজন্য আমি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে সুরক্ষিত করা, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এই ভাইরাসের কারণে মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া- এটাই সরকারের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। যেহেতু এটা অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়, সেজন্য দেশবাসীকে আমি অনুরোধ করব, যেহেতু রোজার মাস, আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, ধীরে ধীরে আমরা কিছুকিছু জিনিস উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। কিন্তু সেখানে আপনাদের সবাইকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে। আবার অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে থেকে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি সবাইকে মুখে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যা আসবেই, আর তা মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করি। আমরা মনুষ্যসৃষ্ট সেই অগি্নসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। কাজেই এই করোনাভাইরাস দুর্যোগও আমরা ইনশাআল্লাহ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। এটা আমরা বিশ্বাস করি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটাই দুঃখ জাতির পিতার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত আমরা করে গড়ে তুলবো। ইতোমধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত আমরা করেছিলাম। আরও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এই ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দারিদ্র্য আরও কমাতে পারতাম। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সেটা স্থবির হয়ে গেছে। আমি আশাবাদী আমাদের যে অগ্রযাত্রা, সবাই মিলে কাজ করলে সেটা অব্যাহত রাখতে পারবো। তিনি বলেন, কৃষি আমাদের দেশের সব থেকে বড় সম্পদ। এখন যেহেতু সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক স্থবিরতা এসে গেছে, সেখানে একটা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, নিজের দেশকে যেমন আমরা রক্ষা করবো, পাশাপাশি অন্যান্য দেশ, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা খাদ্য পাঠিয়েছি, সহযোগিতা পাঠিয়েছি এবং আরও হয়তো আমাদের পাঠাতে হবে। সেই জন্য আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন পড়ে না থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের একটা জিনিস দিয়ে গেছেন, যে আমাদের জমি অত্যন্ত উর্বর। জাতির পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর, অনেকে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল স্থবির অবস্থা তিনি কীভাবে কাটাবেন। তিনি বলেছিলেন আমার মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমার মাটি আছে, আমার মানুষ আছে। আমরা এই মাটি আর মানুষ নিয়েই দেশকে গড়তে পারবো। আমিও জাতির পিতার সেই আদর্শে বিশ্বাস করি। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো- এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। আর এখন যেমন ধান কাটলাম, কাটার সাথে সাথে সেই মাঠে যেখানে রোপা, আউশ বা তার বাইরে কী লাগানো যায়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, এই যে মাঠ খালি থাকবে, সেখানে কী লাগানো যেতে পারে, কোন ফসল উৎপাদন হতে পারে সহজে। তরিতরকারি, মাশরুম থেকে শুরু করে কী হতে পারে, সেটা দেখে সেই জায়গার মাটি টেস্ট করে সে জিনিসগুলোর যেন উৎপাদন বাড়ে। অর্থাৎ যা কিছুই হোক উৎপাদন হোক কিছু। মানুষের ঘরে একটু খাবার থাকুক বা বাইরে সাহায্য-সেবা যেন আমরা দিতে পারি। সেটার ব্যবস্থা যেন আমরা করতে পারি।

রংপুর মঙ্গাপীড়িত ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা স্থানীয় সচ্ছল পরিবার ও প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, রংপুরে যেন মঙ্গা ফিরে না আসে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুরকে আমি বিশেষভাবে বলে যাচ্ছি, যেহেতু এটা একটি মঙ্গাপীড়িত এলাকা ছিল, এখানে যারা একটু সচ্ছল পরিবার আছেন বা আমাদের যারা প্রশাসন সকলকে আমি অনুরোধ করবো- এই এলাকায় যেন আবার মঙ্গা ফিরে না আসে। সে দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। এ সময় হোটেল বন্ধ থাকার কারণে দুধ উৎপাদনকারীরা সমস্যায় পড়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মিষ্টির দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুধ থেকে ঘি তৈরি করা… প্রত্যেকটা ডিসির হাতে আমরা টাকা দিয়েছি ত্রাণের জন্য। তাছাড়া যারা ত্রাণ দেবেন কিছু দুধ কিনে বাচ্চাদের দিতে পারেন। পাশাপাশি গুঁড়া দুধ তৈরি করা, ঘি তৈরি করা যেগুলো দীর্ঘদিন থাকবে সে ব্যবস্থাও নিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতে আমরা বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সেখানে ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, মাঝারি কৃষক যারা মৎস্য চাষ করেন প্রত্যেকে যেন কিছু সুযোগ পান সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান আমরা সংগ্রহ করবো। এর মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আতপ, ৮০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমরা সংগ্রহ করবো। আশাকরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের খাবারের সমস্যা হবে না। আউশ, আমন, তাছাড় অন্যান্য ফসল আসবে। কাজেই বাংলাদেশ খাদ্যের অভাব যেন আর না হয়, সেটা দেখতে হবে।

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম ছিল কুঁড়েগ্রাম। আমরা বলতাম কুঁড়েগ্রাম, চাইতেও জানে না। না রাস্তাঘাট, না কিছু। নদীতে পার হয়ে হয়ে যেতে হয়েছে। এখন তো ছয় ঘণ্টার মধ্যে চলে আসতে পারে, এ রকম ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। মঙ্গা যেন আবার ফেরত না আসে। নদীর পাড় ধরে কয়েক মাইল পায়ে হেঁটে সেই চিলমারী পৌঁছেছিলাম। রাজীবপুর গেছি, একটা রিকশাও নাই, এমন অবস্থা। ওখানে যাওয়ার কিছু নাই। সেখানে ব্রিজ করে দিয়েছি, বলেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমারই আইডিয়া। আমি বলেছিলাম এটা করবো, এটা হয়ে যাবে। আইন পাস করে দেবো আমরা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। শেখ হাসিনা বলেন, কুড়িগ্রাম খাদ্যে উদ্বৃত্ত, এটাই আমি খুব আনন্দিত। এটা ধরে রাখতে হবে। এখানে ফসল উপাদনটা বহুমুখী করতে হবে। চিলমারী বন্দরের কাজও আমরা শুরু করেছিলাম, এই করোনাভাইরাসের কারণে সব আটকে গেল। সেটাও হয়ে যাবে, নদীগুলো সব ড্রেজিং করা হবে। অনেক প্ল্যান নেয়া আছে। আমি চাই কুড়িগ্রামের কুঁড়েমি দূর হয়ে কুড়িগ্রাম আরও উন্নত হোক। কুড়িগ্রামের মানুষ ভালো থাকুক। আর মঙ্গা যেন ফেরত না আসে, বলেন সরকার প্রধান। ভি?ডিও কনফারেন্সে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কুড়িগ্রাম এলাকা মানুষ পশ্চাৎপদ দুর্ভিক্ষ এলাকা বলে মানুষ জানে। আপনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কুড়িগ্রামে যেভাবে কৃষি উন্নয়ন হয়েছে, আমরা কুড়িগ্রামের মানুষ নিজেদের খাদ্যে সংসম্পূর্ণ হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছি। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কুড়িগ্রামের মানুষ না চাইতে আপনি অনেক কিছু করেন। কুড়িগ্রামের মানুষ অনেক সরকারের কাছে অনেক কিছু চেয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারই কুড়িগ্রামের মানুষের কিছু দেয়নি। একমাত্র আপনি প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামবাসীকে যা দিয়েছেন তা আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হা?সিনা বলেন, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি এটার প্রভাব পড়বে আগামীতেও। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম জাতি এর সুফল পেতে শুরু করেছিল হঠাৎ করে আঘাত আসলো। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে যেহেতু এটা এসেছে স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জা?নিয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এবার একটু ভিন্নভাবে পালন হচ্ছে। কেন এভাবে পালিত হচ্ছে তা আপনারা সবাই জানেন। করোনাভাইরাস আমাদের মাঝে মহাবিপর্যয় হিসেবে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আপনারা আমার শহীদ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন। এ ছাড়া আমি দেশবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

সূত্র: দৈনিক জনতা

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো বার্তা..
নিঃস্বত্ত্ব © সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের। আমাদের নিজস্ব কোন স্বত্ব নেই।

কারিগরি সহায়তায় WhatHappen