1. ruhul.lemon@gmail.com : admin :
  2. tanjid.fmphs@gmail.com : তানজিদ শুভ্র : তানজিদ শুভ্র
  3. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

যশোরের শার্শার তরুন উদ্ভাবক মিজানের মহানুভবতা

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ১০৪ বার পঠিত

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে দক্ষিণঅঞ্চল থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত দুই দিন যাবত তারা শ্রম বিক্রি করতে না পেরে খাওয়ার জন্য ছট ফট করতে দেখা গেলেও কোন সাহায্যকারীকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নজর কাড়ে শার্শার তরুন মটর মেকানিক দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানের।

মুহুর্তের মধ্যে অসহায় অভুক্ত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দক্ষিণঅঞ্চল থেকে আসা ২৫ জন শ্রমজীবি কৃষককে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। যা এক চরম মহানুভবতা, এক বিরল দৃষ্টান্ত।

তরুণ উদ্ভাবক মিজানুর রহমান জানান, গত দুই দিন যাবত তারা কাজ না পেয়ে খাওয়ার কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে যেদিন থেকে লকডাউন চলছে সেদিন থেকে আমি অসহায় মানুষ ও পশুপাখির জন্য নিজে রান্না করে খাবার বিতরণ করছি। যেটি এখনও অব্যাহত আছে।

যখন আমি জানতে পেরেছি দক্ষিণঅঞ্চল থেকে আসা কিছু জোন বা কৃষি শ্রমিক কাজের অবাবে ক্ষেতে পারছে না তখনি আমি তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছি এবং যে কয়দিন এই শ্রমিকরা কাজ না পাবে সে কয়দিন আমি তাদের পাশে এভাবে খবারের ব্যবস্থা করবো।
পাশাপাশি এই সমস্ত অসহায় ধান কাটা শ্রমিকরা যেন কিছুটা সাহায্য সহযোগিতা পাই সেদিকে বিত্তবানরা নজর দিবেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শার্শা উপজেলার নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বসে অন্যরকম এক মানুষ কেনাবেচার হাট। এখানে কেউ আসে কৃষি কাজের জন্য শ্রমিক কিনতে, আর কেউ আসে নিজের শ্রম বিক্রি করতে।

প্রতিবছর বরো মৌসুমে ধান কাটা, মাড়াই ও রোপনের সময় এখানে বসে কৃষি শ্রমিকদের এই হাট। চলে পুরো ধানের মৌসুমজুড়ে। তবে এবার করোনার লকডাউনের কারনে অনুমতি নিয়ে আসতে হচ্ছে তাই অন্যান্য বারের তুলনায় শ্রমিক কিছুটা কম।

সাধারণত সাতক্ষীরার আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে কৃষি শ্রমিকরা আসেন। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকদের এই বাজার ‘দখিনের জোন’ নামে পরিচিত। এ বাজারে আসে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সের দিনমজুর।

সবার লক্ষ্য এক। কোনো ক্রেতা পেলে দর কষাকষি করে কাজ জুটিয়ে নেওয়া। এখানকার দিনমজুররা পারিশ্রমিক বাবদ প্রতিবিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াইসহ যাবতীয় কাজের জন্য পান তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যদি কাজ না জোটে তাহলে আবারও পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারনে সবাই বের হতে পারছে না। যার কারণে নিজেরাও খোঁজাখুঁজি করে কাজ যোগাড় করতে না পারাই টাকার অভাবে না খেয়ে দিন রাত পার করছে তারা।

সাতক্ষীরায় মাছের চাষ বেশি হওয়ার কারণে ওখানে এখন কৃষি শ্রমিকদের কাজ থাকে না। অল্প সময়ে বেশি উপার্জনের আশায় এসব দিনমজুর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করতে আসে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, পুরোপুরি ধান কাটার উপযোগি সময় চলছে। আগামী ১৫মের ভেতরে সকল প্রকার ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে তবে ঝড়বৃষ্টির আশংকায় কৃষকরা আগে থেকেই ধান কাটা শুর করেছেন।

তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১লাখ ৬৮ হাজার ৫৭২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এবার উপজেলায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৪৭মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে মাঠ থেকে ধান তোলায় ব্যস্ত এখানকার জমি মালিকরা ধান কাটার শ্রমিক সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে সৌতম কুমার শীল বলেন, ধান কাটা,মাড়াই ও বস্তাজাত করার জন্য উপজেলায় ৬টা হারভেস্টারে কাজ চলছে।

এর মধ্যে ২টা হারভেস্টার মেশিন ভাড়া করেছি।আরো দুটি আনা হবে। প্রতিটি হারভেস্টারে ঘন্টায় তিন বিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাজাত করা সম্ভব। একই সঙ্গে সবাই ধান তোলা শুরু করায় উপজেলার সর্বত্র কৃষি শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। বাইরের শ্রমিকরা আসায় সেই অভাব অনেকটা পূরণ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকরা বলেন, অন্যবারের চাইতে এবার কাজ কম। কাজের চেইতে বাজারে জোন (শ্রমিক) বেশি থাকায় আমাদের চাহিদা কম। প্রতিদিন আবার সবার কাজ জোটে না। এভাবেই চলে শার্শার নাভারনের প্রতিদিনের এই শ্রম বাজার।

শ্রমবাজারের কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। প্রতিদিন এই বাজার থেকে অন্তত তিন শতাধিক শ্রমিক বেচাকেনা হয়ে থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো বার্তা..
নিঃস্বত্ত্ব © সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের। আমাদের নিজস্ব কোন স্বত্ব নেই।

কারিগরি সহায়তায় WhatHappen