1. ruhul.lemon@gmail.com : admin :
  2. tanjid.fmphs@gmail.com : তানজিদ শুভ্র : তানজিদ শুভ্র
  3. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০১ অপরাহ্ন

মুহতাসিন অহিন’র লেখা গল্প “সমাপতন”

  • প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২০
  • ৭৫ বার পঠিত

সমাপতন

মুহতাসিন অহিন

রাত প্রায় দেড়টা। রাস্তাঘাট জনমানবহীন। একদুই টা কুকুর ঘোরা ফেরা করছে। ল্যাম্পপোস্ট এ বাতি জ্বলছে। হঠাৎ একটা লোকের ছায়া দেখা গেলো। হাতে ছোট ব্যাগ নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। সে একটি একতলা বাড়ির দরজার সামনে কিছুক্ষন দাঁড়াল, তারপর সে সামনে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বিরাট বড় তালা ঝুলছে। কিন্তু ব্যাগ থেকে কি যেনো বের করে অদ্ভুত কৌশলে লোকটি তালা খোলা শুরু করলো। খানিক বাদেই খট করে তালা খুলে যাওয়ার আওয়াজ হলো………

 

লকডাউন ঘোষনার পর থেকে রাস্তায় লোক সমাগম অনেকটাই কমে গেছে। দিনের বেলা কিছুটা লোক থাকলেও সন্ধ্যা ৬ টার পর মানুষজন দেখা যায় না বললেই চলে। মহামারী করোনা ধীরে ধীরে আমাদের দেশে ভয়াল রুপ ধারন করছে। এই সময়টায় সবাই বাসায় থাকছে তাই চোরেদের বড় একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মানুষ এখন দিনে ঘুমায় আর রাতে জেগে থাকে, বিশেষ করে কম বয়সী ছেলেপুলেরা তো ফজরের আযান না শুনে ঘুমোতেই যাবে না। এর মধ্যে চোরেরা পড়েছে বিপাকে। সকালে মোটামুটি লোক থাকে বলে তখন চুরি করা যাচ্ছে না, আর রাতের বেলায় লোকেরা ঘুমোচ্ছে দেরি করে তাই সে সুযোগ টাও নেয়া যাচ্ছে না। বড্ড ফ্যাসাদে পড়ে গেলো রুবেল। ঘরে অসুস্থ মা, বাইরে অসুস্থ শহর, আর তাই সব মিলিয়ে তার মনটাও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আজ প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চুরি করা হচ্ছে না তার। তাই টাকা পয়সা একদম নেই হাতে। দৈনিক বিড়ি টা পর্যন্ত খেতে পারছে না,ভাতের কথা আর কি বলবে। বিকেলের দিকে রাস্তার ধারের চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে ছিলো, দোকান বন্ধ কিন্তু বেঞ্চি দিব্যি বহাল আছে সবার জন্য। সবাই ঘরে কিন্তু রুবেল বাইরে। গরীবের আবার করোনার ভয় কিসের! না খেয়েই তো মারা পড়বে কয়েকদিন পর। এসবই ভাবছিলো সে, হঠাৎ দেখলো যে তার ঠিক সামনের যে একতলা বাড়িটি আছে সেটিতে বিরাট বড় তালা ঝুলছে। বিশিষ্ট ভদ্র লোক,নামীদামি ব্যবসায়ী ও এলাকার গণ্যমান্য লোকেদের একজন, মোঃ রহমত ব্যাপারীর বাড়ি এটি। মোটমুটি অনেকখানি জায়গা নিয়ে করা বাড়িটি,সামনে কিছু জায়গাও আছে, তারপর রোড আর রোডের ওপারে চায়ের দোকান এবং সেখানে বসেই রুবেল দেখছিল বাড়িটা। আজ সকালেও সে এখান দিয়ে গেছে কিন্তু সে নিশ্চিত সে এখানে এত বড় তালা ঝুলতে দেখেনি। এই মহামারীর মধ্যে কোথায় গেলেন রহমত সাহেব? তাও আবার বাড়ি সুদ্ধ? মাথায় বুদ্ধি খেলে গেলো,যদি রহমত সাহেব রাতেও বাড়ি না থাকেন তবে এ বাড়িতে আজ ঢু মেরে আসতে পারলে অনেকদিনের ভরনপোষণ হয়ে যাবে। তাই সে ঠিক রাত একটা বেজে যাওয়ার পরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। হাতে একটি ব্যাগ,তাতে চুরির সরঞ্জাম রয়েছে। রাস্তায় দুই একটা কুকুর ডাকছিল। সে সেই বাড়ির দরজার সামনে এসে দাড়ালো…..

দরজা খুলে রুবেল ভিতরে চলে এলো। বড় বাড়ি তাই ঢুকেই সে কোনো কুল পেলো না! পুরো খালি একটি বাড়ি, কিন্তু না, বাড়িটি কি আসলেই খালি? একটা কোনের ঘরে হালকা বাতি জ্বলছে মনে হয়! কি হতে পারে? রুবেল আস্তে দরজা লাগিয়ে সে ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। ঘরটি থেকে খটমট খটমট আওয়াজ হচ্ছিল, রুবেল এর প্রায় ভয় পাওয়ার জোগাড় হলো। সে তবুও ধীরে ধীরে দেয়াল ঘেষে এগিয়ে যেতে লাগলো, ঘরের যত কাছাকাছি যাচ্ছে, শব্দ আরো তীব্র হচ্ছে। সে  একদম কাছে চলে এলো এবং কাছে এসে সে ঘরটিতে উকি দিলো। যা দেখলো তা দেখার পর সে আতংকিত হয়ে উঠল,সাথে কিছুটা ভয়ও করতে লাগলো। সে দেখলো ১৯-২০ বছর বয়সী একটি মেয়ে টুলের উপর দাড়িয়ে ফ্যানের সাথে ওড়না বেধে ফাঁস নেয়ার চেষ্টা করছে। টুলে দাড়িয়ে ওড়না ফ্যানের সাথে বাধছিল তাই টুলের আওয়াজই তখন পাওয়া যাচ্ছিলো। যেই মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়ে টুল ধাক্কা দিলো ঠিক তখনই বিদ্যুৎ বেগে রুবেল গিয়ে মেয়েটিকে ধরে ফেললো। মেয়েটি ছেড়ে দেয়ার জন্য হাত ছুড়তে লাগল, কিন্তু রুবেল লড়ছে না, গায়ে তার ভীষণ জোর, সেই ভয়ার্ত,আতংকিত রুবেল এখন নেই, সে প্রানপণে মেয়েটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে লাগলো!বহু চেষ্টার পর মেয়েটি কে সেখান থেকে নামিয়ে ফেললো রুবেল! মেয়েটি হাপাচ্ছে এবং রুবেলের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো সে এখনই তাকে কাচা চিবিয়ে খাবে। রুবেল তাড়াহুড়ো করলো না, সে ঠান্ডা মাথায় এক গ্লাস পানি নিয়ে এলো।

এ যেন রুবেল নয়,অন্য কেউ! সে যে চুরি করতে এসেছে,সে এটা এতক্ষনে বেমালুম ভুলে গেছে! ফ্যান থেক ওড়না টা খুলে ফ্যান টা ছেড়ে দিলো। তারপর সে আস্তে আস্তে মেয়েটির সাথে কথা বলা শুরু করলো।

 

– আফা,আফনের কি হইসে?আফনে ফাস নিবার গেসিলেন ক্যান?

– আমার ইচ্ছা আমি ফাস নেবো,আমি ঝাপ দেবো, তাতে তোমার কি?

– হ,ওইডা ঠিক কিন্তু এমনে মরা তো উচিত না গো আফা, আল্লায় গুসসা করবো! ফাস নেয়া নাকি ম্যালা বড় গুনা! আফনে তো রহমত কাহার সোডো মাইয়া,ভালা ঘরের মাইয়া, আফনে এমনে মরবার গেসিলেন ক্যান?

 

মেয়েটি চুপ, খানিক বাদে বাদে কাশছে এবং রুবেল যখন তাকে নামাচ্ছিল তখন তার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিল! রুবেল আপন মনে কথা  বলতে লাগলো!

– আফা, আফনের গায়ে ম্যালা জ্বর, বারে বারে কাশতাসেন! শইল খারাপ নাকি?

 

এবার যেনো তার চোখ ছলছল করে উঠল। চোখের পাশে আস্তে আস্তে পানি জমা হতে থাকল, কিছুক্ষন বাদে তা গালবেয়ে পড়া শুরু করলো। রুবেল ঘাবড়ে গেল,ব্যাপার কিছুই আঁচ করতে পারলো না!

তাই সে এবার একটু নরমভাবে জিজ্ঞেস করলো,

 

– আফা, কি হইসে? কানতাসেন ক্যান? শইল কি বেশি খারাপ নাকি?

 

এবার সে মুখ খুললো, আস্তে আস্তে বলা শুরু করলো-

 

– কাল রাত থেকেই শরীর টা খারাপ ছিল, খুব কাশি হচ্ছিল এবং শেষ রাতের দিকে খুব জ্বর হয়েছিল। সারা সকাল জ্বর ছাড়েনি, অনবরত কাশি হচ্ছিল, এই সকল ব্যাপার দেখে বাবা মা ভাইয়া আপু সবাই আতংকিত হয়ে উঠল, তারা ভাবলো যে আমার হয়ত করোনা হয়েছে, তারা একবার চিন্তা করলো না যে একবার গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসি, তারা আমাকেই কথা শুনাতে লাগলো, যেন আমি কোন পাপ করেছি, বিরাট কোন পাপ। বাবা মা নইলে অতটা শিক্ষিত নন, কিন্তু ভাইয়া আপু? তারা তো উচ্চ শিক্ষিত, তারা তো বুঝে, তারাও আমাকে নিয়ে একবার পরীক্ষা করতে গেলো না, তারাও আমাকে কথা শুনাতে লাগলো! যেন আমার দোষেই হয়েছে, যেনো আমার কারনেই হয়েছে, অসতর্কতার কারনে হলেও হতে পারে তাই বলে এভাবে বলতে হয়?

যেনো আমার এইডস হয়েছে!

 

শেষ কথা টা বলে কিছুক্ষন থামল, তারপর আবার বলা শুরু করলো!

– শুনেছি এই ভাইরাস ধরা পড়ার পরেও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছে, তাহলে আমাকে পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা করালে কি হতো? তা না করে তারা কি করলো জানেন?

 

এবার তার গলা থেকে নরম এবং কাতর ভাব টি মুছে গিয়ে ক্রোধের গর্জন ভেসে আসতে লাগলো! সে বললো,

 

– তারা আমাকে এই বাড়িতে মরতে দিয়ে চাচার বাড়ি গিয়ে উঠেছে, তাদের মনে হয় আমার কাছে থাকলে তাদেরও হবে এবং তারাও মারা পড়বে, কিন্তু কথা হচ্ছে ইতোমধ্যে তো তারা অনেকবার আমার সংস্পর্শে এসেছে, তখনো তো তাদের গায়ে ভাইরাস গিয়ে থাকতে পারে? কি পারে না? তবে কেনো তারা নির্বোধ এর মতো আমাকে এভাবে রেখে চলে গেলো? মা বাবার কি পরিচয় দিলো তারা?

 

এসব শোনার পরে রুবেল যেনো থ মেরে গেলো, এমনটাও কেউ করতে পারে? তার যেনো বিশ্বাসই হচ্ছে না! তাও সে তার হকচকিত ভাব টা বুঝতে না দিয়ে বলল,

 

– আইচ্ছা আফা আফনের নাম কি?

– সাদিয়া।

– আইচ্ছা সাদিয়া আফা হুনেন একখান কথা কই, এই দুনিয়ায় এহন যা চলতেয়াসে তাতে কেউই আর আফন না কো আফা! যারা এই করোনায় মরতেয়াসে,অনেকে জানাজাও পাইতেয়াসে না ভালা মত।মানুষ এহন বহুত ভয়ে ভয়ে থাহে গো আফা, আমি তো দেহি, কি ভয়েই না থাহে মাইনষে, ঘরের থে বাইর ই হয় না! অনেক বড় বড় দেশও নাকি কিসুই করবার পারতেয়াসে না, হেগো দেশে নাকি কাতারে কাতারে মানুষ মরতেয়াসে, সবাই ভয়ে আসে গো আফা সবাই ভয়ে আসে!

 

কথা টা বলে রুবেল থামলো, তারপর সাদিয়ার দিকে তাকালো, জিজ্ঞেস করলো,

 

– আফা খাইসেন কিসু?

– নাহ খাই নি, সারাদিন প্রচুর খারাপ ছিলো মনটা, একপর্যায়ে এসে সিদ্ধান্ত নেই যে আত্মহত্যা করবো, আজ বাদে কাল এই রোগ তো মেরেই ফেলবে, তারচেয়ে ভালো আজই কাহিনী খতম করে দেই।

রুবেল উঠে দাড়ালো, বললো,

 

– ঘরে কিসু আসে আফা?  আহেন দুইজনে মিললা কিসু খাই।

 

সাদিয়া সন্দিগ্ধ চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

 

– আপনি কে বলুন তো? এই সময়ে তালা খুলে ঢুকলেনই বা কি করে?

ব্যাপারটা কি?

 

রুবেল কাচুমাচু করে বললো,

 

– ইয়ে আফা হইসে কি আমি হইতাসি রুবেল চোর, এলাকার কুখ্যাত চোর, এই লকডাউন মকডাউন এর ঠ্যালায় আমাগো ফেটে লাথি ফরসে গো আফা, চুরিই করবার ফারি না, আইজকা এই বাড়ি খালি দেইখা চুরি করবার আইসি, বাইতে মা ডা ম্যালা অসুস্থ, ওষুধ কিনবার ট্যাহা ও নাই, তাই আফা আর কি….

 

সে কথা শেষ করলো না, ভেবেছিল সাদিয়া এবার ভালো মন্দ কিছু একটা বলে তাকে বের করে দিবে, তাকে অবাক করে দিয়ে সাদিয়া বললো,

 

– আচ্ছা আপনি যে আমার মত করোনা রোগীর সাথে এতক্ষন আছেন, আপনার প্রাণের ভয় নেই? আবার আমার সাথে একসাথে খেতেও চাইছেন? ভয় করে না?

 

রুবেল হাসলো, বলল,

 

– আমার কিসুতেই ভয় নাই আফা, সব আল্লা ভরসা, যা হইবো হইবো নে, এহন কন কিসু আসে নাকি?

 

– হ্যা, রান্না ঘরের মিটসেফ এ গিয়ে দেখেন হয়ত কিছু থাকতে পারে, ফ্রিজেও থাকতে পারে, দেখেন!

 

রুবেল চলে গেলো খুজে দেখতে, সাদিয়া বসে রইলো, সে ভাবতে লাগলো রুবেল কে নিয়ে, মানুষ কত রকমের হতে পারে, লোকটির কোন ভয় নেই, সে শুধু তাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করার জন্যই এগুলো করছে, তার পাশে রয়েছে৷ মনটা অনেকটা হালকা হয়ে এলো সাদিয়ার। তার এখন অনেকটা ভালো লাগছে, মনের কোণে যে কষ্ট টা বাসা তৈরী করছিল, হঠাৎ এই ছোট ঝড়ে যেনো সেটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।

 

রুবেল খাবার নিয়ে এসেছে। ফ্রিজে পুরনো কিছু খাবার ছিলো এবং মিটসেফ এও খানিক খাবার ছিলো, সব মিলিয়ে দুইজনের ভরপেট হয়ে যাবে। দুজনেই খেতে বসলো। ব্যপারটি খুব আজগুবি হলে সত্যি যে এক জায়গায় বসে চুরি করতে আসা চোর এবং একটি আত্মহত্যা করতে যাওয়া মেয়ে উভয়ই তাদের উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে দিব্যি খেয়ে চলেছে, তাদের ভাব এমন যেনো তারা দীর্ঘদিন এর পূর্ব পরিচিত! খেতে খেতে রুবেল বলল,

 

– আফা, এহন খাইয়া একটা জ্বরের ট্যাবলেট খাইয়া লন আর ফারলে একটা ঘুমের ওষুধ যদি থাহে, তাইলে ওইডা খাইয়া একটা ঘুম দেন, আমি আছি, কাইল সকালে আফনের লইয়া ফরীক্ষা করাইতে যামুনে আর যদি কোনো খারাপ কিসু হয় তাইলে তহন ইনশাআল্লাহ কোন ব্যবস্থা করুম নে, আফনের ফরিবারে বেকগোন রে জানাইতে হইব কি হইলো বিষয়ডা!

 

সাদিয়া শুনছিল সবই, প্রথমদিকের কথা গুলো শুনে তার মনে হচ্ছিল ঠিক হয়ত এই ভাবেই তার বাবা মার ভাই বোন দের উচিত ছিলো তার এই দুঃসময়ে পাশে থাকা, তাকে সাহস দেয়া, কিন্তু না, আজ এক আগন্তুক যাকে সে কখনো দেখেনি,চেনে না,জানে না সে কিনা আজকে তাকে সাহস দিচ্ছে। তার বড় ই আজব লাগছিল কিন্তু ভালোও লাগছিল যে তার পাশে কেউ না কেউ আছে, হোক সে এলাকার কুখ্যাত চোর!

 

শেষের লাইন টা শুনে সাদিয়ার মন আবার ক্রুদ্ধ হলো, সে বললো,

 

– তাদের কিছুই জানানোর দরকার নেই, যাই হোক আমার আমি বুঝবো, খবর দার আপনি যদি কাউকে কিছু বলেছেন!

 

রুবেল হকচকিয়ে গেল, সে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বলল,

 

– আইচ্ছা আফা, আফনে যা কইবেন তাই হইবো, লন এহন খাইয়া লইয়া ওষুধ পত্র খাইয়া একটা ঘুম দেন দেহি!

 

খাওয়া দাওয়া শেষ করে, সাদিয়া ওষুধ খেয়ে শোবার ঘরে চলে গেলো, রুবেল ড্রইং রুমে সোফায় শুয়ে পড়ল!

 

সাদিয়া শুয়ে পড়ল, কিন্তু তার ঘুম একদমই আসছিল না, সে ক্রমে রুবেল কে নিয়ে ভাবতে লাগলো, মানুষটি সত্যি কেমন? কোনো চিন্তা নেই বার্তা নেই, একজন রুগ্ন ব্যক্তিকে সঙ্গ দিতে সে তার চুরি বাদ দিয়ে তার সাথে খোশ গল্প করলো, সান্ত্বনা দিল, মন ভালো করে তুললো! মানুষ কতই না বিচিত্র! এসব ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ল যে সে ঘুমের ওষুধ টি খেতে ভুলে গেছে! তাই সে আবার উঠে ওষুধ খেতে গেল!

 

ওষুধ খাওয়ার পরে সে ড্রইং রুমে একটু ঢু মেরে দেখতে গেলো, দেখলো রুবেল শুয়ে আছে, ঘুমিয়েও গেছে। সে সোফা টায় এমন ভাবে হাত পা গুটিয়ে ঘুমোচ্ছে যেনো একটি বাচ্চা। সাদিয়া কিছুক্ষন তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো, চেহারায় কোন প্যাচ নেই, সাদামাটা চেহারা, কিন্তু কতই না নিষ্পাপ লাগছে তাকে, এইভাবে দেখে তাকে কেউ চোরই মনে করবে না। সাদিয়া একদৃষ্টি তে তার দিকে তাকিয়ে ছিলো, কিছুক্ষণ বাদে সে মুচকি হাসলো, কেনো হাসলো সেটা শুধু সে ই জানে, আর কেউ না। সবকিছু তো সবার বুঝার দরকার নেই, সেই দুর্বোধ্য এবং অব্যক্ত রহস্যময়ী হাসি নিয়ে সে ঘুমোতে গেলো। শুয়ে পড়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই সে ঘুমিয়ে পড়ল, বড় ই শান্তির এক ঘুম দিলো সে। সেটার কোন তুলনাই হয় না। আশ্চর্য এক মিষ্টি অনুভূতি নিয়ে সে ঘুমোতে গিয়েছিল তার মনে, সেটি যেনো এখন সারা ঘর জুড়ে বিরাজ করছে!

 

সকালে রুবেল সাদিয়ার আগে ঘুম থেকে উঠল, উঠে বসার পর খানিকের জন্য মনে হলো সে এখন কোথায়? পরে রাতের সব কিছু মনে পড়ল। মাঝে মাঝেই রুবেল এর সাথে এরকম হয়, নতুন কিছু নয়। রুবেল উঠে গিয়ে মুখে পানির ঝাপ্টা দিলো, কুলি করে নিল। এরকম সাজানো সকাল সে কখনো দেখেনি, দেখেনি এত বড় কোন বাড়ির ড্রইং রুম থেকে সে জেগে উঠবে। তার প্রতিটি সকালের চেয়ে আজকের সকাল টি অনেক আলাদা।

সে পাশের ঘরে সাদিয়া কে ডাকতে গেল, সে তখন ও ঘুমাচ্ছে, উঠতে পারে নি। সে গিয়ে সাদিয়া কে বার কয়েক ডাকল, ডাকাডাকিতে তার ঘুম ভাঙল। সে উঠে বসল। রুবেল তার দিকে তাকিয়ে আছে, তার চেহারার দিকে, চুলগুলো মুখের উপর এসে রয়েছে, কি অমায়িক দৃশ্য! মেয়েটির মুখটি কতটা স্নিগ্ধ লাগছে! যেনো বহু শতাব্দী ধরে না ঘুমানো কেউ এক রাতের এই ঘুমে ফিরে পিয়েছে তার পূর্বের সব লাবণ্য! সে চোখ সরাতে পারছিল না, তাও কিছুটা নিজেকে সংবরণ করে বলল,

 

– আফা, হাত মুখ ধুইয়া লন, আমি নাস্তা রেডি করি, খাইয়া দাইয়া দুইজন মিলা যামু পরীক্ষা করাইতে।

 

কথা টা বলেই সে চলে গেল। ফ্রিজে পাউরুটি ছিলো, এবং ডিমও ছিলো। সে চট করে দুটো ডিম পোচ করে নিয়ে এলো এবং পাউরুটি গুলো সেকে নিয়ে এলো। গতরাতে এই পাক ঘরের কোথায় কি আছে মোটামুটি আন্দাজ হয়ে গিয়েছিল রুবেলের। মা অসুস্থ বলে সে টুকটাক রান্নার কাজ শিখে নিয়েছিল, প্রথমে তার একটু কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে তা সয়ে যায় তার।

 

সে নাস্তা নিয়ে আসলো, সাদিয়া তখন টেবিলে বসে আছে। তার সামনে ডিম রুটি রেখে সে বলল,

 

– আফা খাইয়া লন, আমি চা বহাইয়া আহি, দুধ চা বানানের তো অভ্যাস নাই, বাড়িতে কহনো খাই নাই, বাড়িতে একটু রং চা ই খাইসি, ওইডাতেই চলবো?

 

সাদিয়া তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

 

– এসব কেনো করছেন আপনি? কি প্রয়োজন এসবের? আমার না সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে, এরকমও কি হয়?

রুবেল হাসলো, হাসি রেখেই বললো,

 

– কোনডা সইত্য কোনডা সইত্য না, কী বাস্তব কী কল্পনা এইসব ভাইবা লাভ নাই গো আফা। সবই কিসমত, এই দেহেন আমি যদি আর ১০-১৫ মিনিট পরেও আইতাম তাইলে কি আপনে আর এই দুনিয়ায় থাকতেন কন দেহি? আর আমি জীবনে এই বাড়িতে চুরি করতে আহি? আমার তো সাহস ও হইতো না, তালা মারা দেইখা কইথেকা জানি সাহস আইয়া পরলো, আইয়া পড়লাম চুরি করতে, এইসবই হইলো কিসমত। ওপরওয়ালা আপনারে বাচানের লিগাই হয়ত আমারে পাডাইসে!

 

কথা গুলো আসলেই সত্যি। আসলেই সবই সত্যি, সবই ভাগ্যের খেলা।

 

খেয়ে দেয়ে তারা প্রস্তুত হয়ে বের হয়ে গেল। দরজায় দাড়িয়ে রুবেল তালা দিচ্ছিল। দৃশ্যটি দেখে সাদিয়ার বড় হাসি পেলো। যে কিনা কাল রাতে এই বাড়ির তালা খুলে চুরি করতে ঢুকেছিলো সেই লোক আজকে সেই দরজায় তালা দিচ্ছে চুরি না হওয়ার জন্য। হাসিমুখেই সাদিয়া বলল,

 

– যে বাড়িতে চুরি করতে দরজার তালা খুলে ঢুকেছিলেন, সেই বাড়িতেই আবার চুরির ভয়ে তালা দিচ্ছেন? হা হা হা!

 

রুবেল কিছুটা লজ্জিত বোধ করলো, সেও মুচকি হাসলো এবং তার সাথে জিভ কেটে বলল,

 

– লজ্জা দিয়েন না আফা, বড় ই লজ্জা পেলাম।

 

হাসতে হাসতে সাদিয়া বেরিয়ে এলো। আজ খুব সুন্দর রোদ উঠেছে।কাল রাতে যদি ঠিক সময় রুবেল না আসতো, তাহলে হয়ত এসব কিছুই তার আর দেখা হতো না। তেমন একটা গরম ও লাগছে না। রাস্তায় মানুষ জন নেই, খানিক সামনে এক দুইটা রিক্সা দাড়িয়ে আছে। সেটির উদ্দেশ্যেই তাড়া রওয়ানা দিলো।

 

রিক্সায় চড়ে কিছুক্ষন এর মধ্যেই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে গেলো। নেমে সাদিয়া সোজা ভিতরে চলে গেল এবং রুবেল বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষন পর স্যাম্পল দিয়ে সাদিয়া বাইরে চলে এলো। রুবেল দাড়িয়ে বিড়ি ফুকছিলো, তাকে দেখে ছুড়ে ফেলে দিলো। সেটা দেখে আবার সাদিয়া হাসলোও! হাসলেও তার মনে হচ্ছে যে, সে হয়ত আর বেশি দিন বাঁচবে না! এই রোগ তাকে আর বেশিদিন বাঁচতে দেবে না! তার হঠাৎ খুব মন খারাপ হলো এবং সাথে সে একটি সিদ্ধান্ত নিল। যদিও সিদ্ধান্তটি একেবারেই অযৌক্তিক এবং একদমই ছেলে মানুষি হয়ে যাবে, তাও এটিই তার শেষ সিদ্ধান্ত। সে রুবেল কে ডেকে বলল,

 

– শুনুন, এখন যে কথাগুলো বলব তা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং যদি কোন প্রকার আপত্তি থাকে তবে তাও আপনাকে মানতেই হবে!

ঠিক আছে?

 

রুবেল কিছুটা ভয় পেল, কি জানি কি বলে বসে, তা নাকি আবার মানতেই হবে।

রুবেল বলল,

 

– আইচ্ছা কন আফা।

– আমার জানা আছে যে আমার টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসবে, আর আমার সংস্পর্শে আসলে তোমার ও বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে তাই তুমি এখনই আমার সামনে থেকে চলে যাও, আমার জন্যে নিজের জীবন বিপন্ন হতে দিও না, বাড়িতে মায়ের খেয়াল রাখো আর পারলে এই চুরি বাদ দিয়ে ভাল কিছু করার চেষ্টা করবে।

 

কথা গুলো সব একদমে বলল সাদিয়া, সে এসব কিছুই বলতে চায় না, সে চায় রুবেল তার পাশে থাকুক, তার সাথে থাকুক, যে কয়টা দিন বাঁচবে সে কয়টা দিন যেনো সে তার কাছেই থাকে, কিন্তু না, এসম্ভব না, রুবেল মেনে নিতে পারবে না, আর রুবেলের জন্য এটা ঠিক ও না, সেও আক্রান্ত হতে পারে, । কথা শেষ করে খানিকটা সময় নিল, এবং রুবেল এর দিকে এমন ভাবে তাকালো যেন সে কিছু শুনতে চায়। রুবেল বুঝতে পারলো! সে বলল,

— আফা এইডা তো হইবো না! জীবনে ম্যালা খারাপ কাম করসি, বহুত চুরি চামারি করসি, এইবার যদি একখান ভালা

কাম কইরা মরবারও পারি তাও ভালা! মা টার লইগা খারাপ লাগলেও, আল্লার জিনিস আল্লায়ই দেখবো! আর আমার মায় যদি হুনে আমি একখান অসুস্থ মাইয়ারে এমনে ফালাইয়া থুইয়া আইসি, তাইলে তো হইসে কাম!

 

শেষের কথাটা বলে রুবেল একটু হাসলো! তারপর সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

– আফা, রেজাল যাই হোউক,আমি আফনের পাশে আসি, বাকিটুকু আল্লাহ ভরসা!

 

সাদিয়া কিছুই বললো না, শুধু এই অদ্ভুত মানুষটির দিকে তাকিয়েই রইলো, সে যেনো রুবেল কে বুঝতেই পারছে না! এমন মানুষ ও তাহলে হয়?

 

তারা হাটতে লাগলো এবং নানান কথায় রুবেল সাদিয়ার মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে লাগলো!

 

অবশেষে ফলাফল এলো, সাদিয়া টেস্টের রেজাল্ট নিয়ে এলো। রুবেল খুবই উৎসুক! আসলে কি হয়েছে তা তার জানার খুবই ইচ্ছা। সাদিয়ার মুখ বিষন্ন,সে কিছু বলছে না! রুবেল কিছুটা পড়তে জানলেও এই ইংরেজি তে এত্ত সব সে বুঝে উঠবে না! সে জানতে চাইল,

 

– আফা, রেজাল কি আইসে? যাই হোউক আফনে চাপ নিয়েন না,আমি কিন্তু আছি!

 

সাদিয়া খানিক বাদে বললো,

 

– রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে, অর্থাৎ আমার করোনা হয় নি! আমার শুধু সিজনাল ফিভার আর কি জ্বর ছিলো!

 

শুনে রুবেল যেনো লাফ দিয়ে উঠল, সে যেনো ঈদের চাঁদ হাতে পেয়েছে! তার খুশি সে ব্যক্ত করতে পারলো না! সে শুধু বললো,

 

– আলহামদুলিল্লাহ আফা,শুকুর আলহামদুলিল্লাহ!

 

সাদিয়া এখনো কিছু বলছে না দেখে রুবেলই আবার বলল,

 

— আফা তাইলে বাড়ির সবাইরে জানান, আফনে সুস্থ আসেন, তারা যাতে ফিরা আহে!

 

সাদিয়া এবার দ্রুত রুবেলের দিকে তাকাল! তাঁর চোখে পানি। সে পানি এখন চোখ বেয়ে গালে এসেছে! রুবেল দেখে ভয় পেয়ে বলল,

 

— কি হইসে আফা কান্দেন ক্যান? কি হইসে কন আমারে?

 

সাদিয়া কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,

 

— আমাকে আর অই বাড়িতে ফিরে যেতে বলবেন না! যারা আমার কোন খেয়ালই করলো না, পরীক্ষা না করেই তারা সবজান্তা হয়ে আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলো, তাদের সাথে আর থাকছি না আমি!

 

রুবেল এবার সত্যি চিন্তায় পড়ে গেলো! কি করা যায়, কিভাবে বুঝানো যায়? সে চেষ্টা করতে করতে বলতে লাগলো,

 

– ধুর আফা এসব বাদ দেন অহন, হ্যারা ভয় পাইসিলো এইল্লেগা তহন অমন একটু করসে, এল্লেগা আপনে ছাইড়া দিবেন হেগোরে? এইডা পোলাপাইন্না কাম হইয়া যাইবো না?

 

– মোটেই না, তারা আমার সাথে যা করেছে তারপর আর ভুলেও তাদের সাথে কোন কিছুই থাকবে না আমার, তাদের জন্য তো আমি মৃত! মৃত মানুষ তো ফিরে আসে না তাই না? তাই আমিও ফিরে যাবো না!

— তাইলে যাইবেন কই আফা?

 

এবার সাদিয়া চিন্তায় পড়লো, রুবেলকে কি সে বলবে এই কথা টা! নাকি বলবে না? সে দ্বিধায় পড়ে গেল, কি করবে? মনের শত মানা পেরিয়ে সে বললো,

 

– আমি আপনার সাথে থাকবো! আমি এমন একটি মানুষই চাই যে কিনা সব রকমের বিপদ আপদে আমার সংগে থাকবে! আমার পাশে থাকবে,আমায় সাহস দিবে, আমাকে বুঝবে! আপনি ঠিক তেমনটাই রুবেল! হোন আপনি চোর তাতে কিছু আসে যায় না, আমি শুধু একজন ভালো মানুষের কাছে থাকতে চাই!প্লিজ!

 

রুবেল কথাগুলো শুনে কিছুক্ষন থ মেরে গেলো, সে এগুলোর জন্য মোটেই প্রস্তত ছিলো না! কিন্তু, সেও যে মেয়েটিকে ধীরে ধীরে পছন্দ করতে শুরু করেছিল, সেটা সে বুঝতে না দিলেও, অনুভব ঠিকই করেছে! এবার সে কি বলবে? সেও চাচ্ছে যেনো সাদিয়া তার সাথেই থাকুক কিন্তু তা তো হয় না! এসবের কোন মানেই হয় না! সে বললো,

 

– আফনে আফা বড় ঘরের মাইয়া, আফনে আমাগো লগে পারবেন থাকতে? আমার অসুস্থ মা ও আসে, এমনেই পেট চলে না, আফনেরে কি খাওয়ামু আমি কন?

 

— আমার কাছে ক্যাশ কিছু টাকা আছে, এবং আমার গায়ে স্বর্নের যা আছে তা দিয়ে অনায়াসে কিছু শুরু করতে পারবেন আপনি, আমি আপনার মায়ের দেখাশোনা করবো! আপনি আমার জীবন বাচিয়েছেন, আমি ঋনী আপনার কাছে! আপনি দয়া করে আমাকে ফেরাবেন না!

 

রুবেল কিছু বললো না! শুধু সাদিয়ার হাত ধরে বললো,

 

— মশারীর ভিতরে ঘুমাইতে পারবেন তো? এসি ও কিন্তু নাই!

 

বলে রুবেল হাসলো,সাথে সাদিয়াও! সাদিয়াও তার হাত দিয়ে রুবেলের হাতটি ধরে বললো,

 

– যেভাবেই থাকি না কেনো আশা করি যত্নেই থাকবো!

 

বলে সে আর রুবেল হাটা শুরু করলো! দুজনে পাশাপাশি! হাতে হাত রেখে! খুব ভালোবেসে!

 

আজ রুবেল তার মা কে বলতে পারবে, আজ সে চুরি করে কিছু আনে নি, আজ সে যা এনেছে সেটা তার অর্জন। আজ সে প্রথমবার কিছু অর্জন করে জয়ের খুশি অনুভব করতে পারছে! সাদিয়া আজ প্রথম কারো হাত এভাবে ধরে একটি স্নিগ্ধ অনুভুতি নিয়ে হাটছে! তাদের উভয়েরই দুই রকম অনুভূতির মূল কিন্তু এক! তারা এখন একে অপরের! চুরি করতে এসে রুবেল অর্জন করলো সাদিয়াকে, আর সাদিয়া মরতে গিয়ে জীবন ফিরে পেল!

 

কি আশ্চর্য সমাপতন!

 

– অহিনকুঞ্জন

মুহতাসিন অহিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো বার্তা..
নিঃস্বত্ত্ব © সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের। আমাদের নিজস্ব কোন স্বত্ব নেই।

কারিগরি সহায়তায় WhatHappen