1. ruhul.lemon@gmail.com : admin :
  2. tanjid.fmphs@gmail.com : তানজিদ শুভ্র : তানজিদ শুভ্র
  3. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

সরকারি ত্রাণের ব্যাগে এমপি ফারুকের ছবি

  • প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫৭ বার পঠিত

ত্রাণের ব্যাগে ব্যক্তিগত কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। মুজিববর্ষের লোগো এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করলেও তার কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। কারো ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করলেও দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। জেলা প্রশাসনের এমন নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী সরকারি ত্রাণের ব্যাগে নিজের ছবির প্রচারণায় নেমেছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের টাকা দিয়ে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে। এ দুই উপজেলায় যেসব ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে সেই ব্যাগে বড় করে আছে তার ছবি। ওপরে ছোট করে রয়েছে মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

তানোরে ত্রাণ বিতরণের জন্য গত শনিবার সভা করে উপজেলা প্রশাসন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। সেই সভায় তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে, তানোর উপজেলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত চাল উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। অথচ এসব চাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করার নিয়ম। এ সভায় তিনি আরও সিদ্ধান্ত দেন, এখন থেকে যে ত্রাণ বিতরণ করা হবে সেই ত্রাণের ব্যাগে তার ছবি থাকবে। ওপরে কোণায় ছোট করে থাকবে মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

সভায় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের কাছে ত্রাণের জন্য প্রকাশ্যে চাঁদাও দাবি করেন। চাঁদার টাকা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের তানোর শাখার একটি হিসাবে (হিসাব নং-৬১৯) জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। হিসাবটি উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না ও এমপির ঘনিষ্ঠজন রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল বাশার সুজনের নামে খোলা। গণমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এ নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসক হামিদুল হক রাজশাহীর সব ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের একটি চিঠি দেন। এতে প্রকাশিত সংবাদটির সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, ত্রাণের ব্যাগে কারো ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করতে হলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। মুজিববর্ষের লোগো এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী জমায়েত করে বিতরণ না করতেও বলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে।

তবে এই নির্দেশনা না মেনে মঙ্গলবার তানোরের তালন্দ, পাঁচন্দর, বাঁধাইড় ও কলমা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) মানুষকে জমায়েত করে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়নাও। এসব স্থান থেকে বিতরণ করা ত্রাণের ব্যাগেও এমপি ফারুকের ছবি ছিল। অথচ ছবি ব্যবহারের কোনো অনুমতিই নেয়নি কেউ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে তানোর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমে ৫৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার অনুকূলে কিছু টাকাও বরাদ্দ আছে। সেই টাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান কিনে বিতরণ করার কথা। কিন্তু এমপির কথায় তা না করে এই টাকায় তার ছবি সম্বলিত ব্যাগ তৈরি করে নেয়া হয়েছে। আর নির্দেশনা অমান্য করে সেই ব্যাগেই ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমপি ফারুক চৌধুরী নিজের ছবি সম্বলিত ব্যাগে ত্রাণ বিতরণ করছেন- এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামাউন ইসলাম লিখেছেন, কার খাদ্যসামগ্রী কে দেয়। সরকারের দেয়া খাদ্য বণ্টন হয় নিজের নামে। হিমাদ্রী রায় নামে এক ব্যক্তি এখানে মন্তব্য করেছেন- পরের ধনে পৌদ্দারি সবাই করতে পারে।

তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ছবি ব্যবহারের বিষয়টি আমি জানি না।

তালন্দ ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেমেকে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, ওই ব্যাগের জন্য সরকারি কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যানরা ভালোবেসে তার ছবি ব্যাগে দিয়েছে।

তানোরের ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ত্রাণের ব্যাগে ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসক যে চিঠি দিয়েছেন সেটি তিনি পেয়েছেন। এরপর সব ইউপির চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের বলা হয়েছে তারা যেন ছবি সম্বলিত কোনো ব্যাগ ব্যবহার না করেন। কিন্তু মঙ্গলবারও এসব ব্যাগ ব্যবহারের বিষয়টি তার জানা নেই।

ইউএনও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাগে ছবি ব্যবহার করা যাবে। তবে তানোরের জন্য এ ধরনের কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। তাই কেউ এই ব্যাগ ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি রাজশাহী জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, অনুমোদন ছাড়া কেউ ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না। সেটি চিঠি দিয়েই সবাইকে জানানো হয়েছে। এরপরেও তানোরে এই ব্যাগ ব্যবহার হয়েছে কি না তা তার জানা নেই। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো বার্তা..
নিঃস্বত্ত্ব © সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের। আমাদের নিজস্ব কোন স্বত্ব নেই।

কারিগরি সহায়তায় WhatHappen