1. ruhul.lemon@gmail.com : admin :
  2. tanjid.fmphs@gmail.com : তানজিদ শুভ্র : তানজিদ শুভ্র
  3. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

দূর্যোগ না আসলে বুঝা যায় না সত্যিকারের দেশপ্রেম আর বাস্তবতা কি?

  • প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৭৭ বার পঠিত

মুক্তিযুদ্ধের পর একযোগে পুরো দেশ প্রায় লকডাউন, আতঙ্ক,
মৃত্যু ভয়! এমন পরিস্থিতি আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি।

অথচ সেকাল আর একাল কত পার্থ্যক্য !

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে সহযোগিতা করতে
পাড়া-প্রতিবেশিরা পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসছে না বরং দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল। ব্যবহারে মনে হয় যিনি আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা আক্রান্ত না হয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে, তাকে কেউ মানুষ হিসেবে মূল্যায়নই করছে না! আচরনে মনে হয়,আক্রান্ত ব্যক্তি মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে ভুল করে ফেলেছেন!
এই সংকটময় সময়ে মানুষের সেবা করা, দেশের সেবা করার উত্তম সময়। অথচ সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে দেখতে পাচ্ছি,
বর্তমানে সাধারণ কোনো অসুস্থতা নিয়ে গেলেও মেডিকেলে ভর্তি নিচ্ছে না। উল্টো বিভিন্ন মেডিকেল/ ক্লিনিক বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই না, সরকারি চাকরিপ্রাপ্ত কিছু ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ভয়ে কর্মস্থলে আসেন না, ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেন না।
অথচ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে, সংসার ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে জীবনকে ঠেলে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৮৫%
যদি সময়মতো নিয়মকানুন মেনে চলে। চিকিৎসকরা সকল পদ্ধতি অবলম্বন করে করোনা রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করলে নিজে আক্রান্ত হবেন না, মৃত্যুর ভয়ের ত প্রশ্নই আসে না! অথচ ১০০% অনিশ্চয়তা জেনেও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আর এখন নিশ্চয়তা দেয়ার পরও অনেকে ভয়ে নিজেদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন!

মুক্তিযোদ্ধা কোটা,ভাতা, এসব নিয়ে যখন কেউ কথা বলে তখন একেকজন লাগামছাড়া হয়ে যায়! দেশের সুসময়ে একেকজন মস্ত বড় সুশীল আর সময়ের সেরা যুদ্ধা বনে যান!
কেউ কেউ ত বলেন, এখন যুদ্ধ লাগলে একদম….

অথচ সরকার দেশের জনগণের সেবা সঠিকভাবে দেয়ার জন্য আগেবাগেই বিভিন্ন প্যাকেজ/সুবিধা ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না!
একেকজন ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েও নিজেদেরকে সরিয়ে নিচ্ছেন! দাবি করছেন, নিজের বাপের টাকায় পড়াশুনা করছি, নিজেকে কোনো হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়ার জন্য নয়!

অথচ মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে না পারলে নিশ্চিত
দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ফাঁসির মঞ্চে ওঠতে হবে এটা জেনেও তারা আত্মবিশ্বাস হারাননি। যে পরিবার থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করছে, স্থানীয় রাজাকার আর সুবিধাবাদীরা পাকিস্তানিদের চামচামি করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে চিহ্নিত করে দিতো। তাঁদের পরিবারে চলতো অমানুষিক অত্যাচার।
দেশ স্বাধীন হলে তারা কোটা ব্যবস্থা পাবেন, ১০০ টাকা ভাতা পাবেন! এগুলো কি তাঁরা কখনো ভেবেছিলেন?
রাষ্ট্র কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে একটা উপহার দিয়েছিলো। সেটাও অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে কেড়ে নেয়ার জন্য সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন!

এখন কোথায় এসব স্ব-ঘোষিত রাজাকারের বাচ্চারা!? যারা নিজের শরীরে রাজাকার লিখতেও দ্বিধাবোধ করেনি!
এখন মানুষ শিক্ষিত, সচেতন হয়েও কত গুজবের স্বীকার হতে হচ্ছে।তখন ধর্মীয় গোরামি আর গুজব কোন পর্যায়ে ছিলো! হিসেব মেলাতে পারেন কি?

মাত্র ত ৪৯ বছরের ব্যবধান! ৫০ বছর না পেরোতেই রং দেখেছেন, রংয়ের ডিব্বা দেখতে সময় লাগেনি!
করোনায় অাক্রান্ত না হয়েও চিকিৎসা, সহযোগিতা না পেয়ে এই আধুনিক যুগে দেশে লোক মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত হলে কেউ পাশে নেই! মৃত্যু হলে ভয়ে জানাযায় ও আসে না কেউ!

হিসেব কি মিলে বাংলাদেশ?

আমরা ত ভাল না! ভাল লইয়া থাকেন। দেশের জন্য মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে মন চায় কিন্তু সাধ্যের বাহিরে! আমাদের মনমানুষিকতাটাকে বিষাক্ত করে দেয়া হয়েছে।

এসব এখন বলার সময় না জানি । দেশ বর্তমানে একটা মহামারির আতঙ্কে আছে। দূর্যোগ না আসলে বুঝা যায় না সত্যিকারের দেশপ্রেম আর বাস্তবতা কি। এই সময় আর সেই সময়গুলো একটু মেলানোর জন্যই কথাগুলো বলা।
দলমত নির্বিশেষে মনুষ্যত্বটাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলাই হচ্ছে এখন সবচেয়ে বড় ধর্ম।

এটাও জানি, এই কথাগুলো অনেকের কাছে বিরক্ত লাগবে। কিন্তু একটু ভাবুন ত,সুসময় আর দুঃসময় মিলে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কারা? সুসময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কাদের মনে আমরা আঘাত দিয়ে একদম জর্জরিত করে ফেলেছি!?

লেখক
এস.এম তোফায়েল আহমেদ
সিলেট,কোম্পানীগঞ্জ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো বার্তা..
নিঃস্বত্ত্ব © সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের। আমাদের নিজস্ব কোন স্বত্ব নেই।

কারিগরি সহায়তায় WhatHappen